Menu

About

বর্তমান সম-সাময়িক সময়ে এ পৃথিবীতে মান-সন্মান নিয়ে  বেচে থাকাই  চরম সার্থকতা । জ্ঞান-বিজ্ঞান,প্রযুত্তি,তথ্য ও সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন  সহ ভৌগলিক রূপরেখার পরিবর্তনের ফলে সমগ্র বিশ্ব আজ হাতের মুঠোয় চলে এসেছে । এসময়ে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষরা  শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করে সমাজে মান-সন্মান নিয়ে বেচে  থাকার পথ বেছ নয় ।এ পথের একজন পথিক মোঃ সেলিম মিয়া ,জন্ম গ্রহন করেন নরসিংদীর সর্বশেষ থানা মনোহরদীর  চর সনমানিয়া গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে ।তখন সময়টা ছিল পশ্চিম পাকিস্হান নাম ছিল আমাদের বাংলাদেশের এবং মূলতঃ ইংরেজ শাসনামলের পরিসমাপ্ত  ।নতুন মেরুকরনের বাস্তবতায় চারদিকে  নদীঘেরা চড়াঞ্চলটির রাখাল বালকটির মনে ছিল এক অন্য রকম পরিকল্পনা ।মোটামুটি স্বচ্ছল এবং ব্যাবসায়িক মনোবৃত্তির ফলে সেলিম মিয়া পিতাকে সকলের কাছে কুদ্দুস বেপারী নামে পরিচিত ছিলেন । কুদ্দুস বেপারী তার ও আশে-পাশের গ্রামের মানুষদের অতিরিক্ত ফসল ,সবজি দূরবর্তী হাট নয় বিক্রয় করতেন। কিন্তু দুঃখ-জনক সত্য এই যে,অতি কষ্ট করে তিনি বিভিন্ন মানুষের ফসল  লাভে বিক্রয় করে তার মুনাফা হতো না। কুদ্দুস মিয়া তার ৩ সন্তানকে জানায় এবং ঠিক হয় এর পর থেকে ৩ ছেলে লেন-দেনের হিসাব খেয়াল করবে ।কুদ্দুস বেপারীর ২য় সন্তান সেলিম অতি ছোটকাল থেকে হিসাব-কিতাবে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন ও গ্রামে শিক্ষিত লোক আসলেই তিনি তাদের কাছে -তাকে কিছু পড়াশুনা শেখানোর জন্য তাদের অনুরোধ করতেন ।সৌভাগ্যক্রমে সেলিম  মিয়ার গ্রামে একজন শিক্ষিত লোক তার মামার বাড়িতে বেড়াতে আসলে সেলিম মিয়া তার পা জড়িয়ে ধরেন তাকে লেখাপড়া শেখানোর জন্য ।ঐ শিক্ষিত লোকটি -পরবর্তীতে যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রধান হয়েছিলেন তিনি ঐ গ্রাম্য বালকটিকে মাএ ৩০ দিনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্ত পাঠ দিতে সমর্থ হয়েছিলেন ।অতপর সেলিম মিয়া কুদ্দুস  বেপারীকে লোকশানের পরিবর্তে লাভের মুখ দেখাতে  সমর্থ হয় এবং ছেলের হিসাবের দক্ষতা দেখে খুবই মুগ্ধ হন । আর তাই সেলিম মিয়া  পিতাকে তার গ্রাম থেকে ২০মাইল দূরবর্তী হাই স্কুলে ভর্তির আবদার করলে কুদ্দুস বেপারী হাসিমুখে তার প্রস্তাব  মেনে নেয় ।বর্তমান

হাতিরদিয়া বাজারের অতি সন্নিকটে অবস্হিত সাদেক আলী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে সেলিম মিয়া তার শিক্ষাজীবন শুরু করেন ।অতি দরিদ্র পরিবারের অত্যন্ত নিরীহ,শান্ত ও ভদ্র ছেলে হিসেবে বিদ্যালয় ও গ্রামের সকলেই তাকে ভালোবাসতো ।তখনকার সময় বইপুস্তক শিক্ষার্থীকে কিনতে হওয়ার ফলে সেলিম মিয়া তার বাবার সামর্থে শুধুমাএ গনিত শিক্ষার বইটি কিনতে সমর্থ হয়েছিলেন ।কিন্তু এই অর্থনৈতিক দৈন্যতা তার শিক্ষার আলো বিন্দুমাএ ক্ষীন করতে সমর্থ হয়নি ।পাঠ্যপুস্তকের অভাবে তিনি সপ্তাহের ৩/৪ দিন স্কুলের লাইব্রেরী কক্ষে থাকলেন স্কুলের বই পড়ার জন্য এবং শুধুমাএ চিড়া-গুড় ও পানি খেয়ে থাকতেন ।বইপুস্তক পাবার আশায় তিনি সিনিয়ার ছাএদের বাড়ীতে যান এবং বহু আবদার অনুরোধ করে একেক জনের নিকট একেকটি বই সংগ্রহ করেন ।এভাবে জীবন সংগ্রামের বাস্তবতার একেটটি বাধা অতিক্রম করেছেন অতি যত্ন সহকারে -সেই সাথেই তার পিতাকে সাহায্য করতেন-সকল হিসাব-কিতাব বুঝিয়ে দিয়ে ।তার  এই জীবনযুদ্ধের সন্মানজনক স্বীকৃতি লাভ করেন-৮ম শ্রেনীতে বৃত্তি পরিক্ষায় সমগ্র নারায়নগন্জ্ঞ মহকুমায় তিনি টেলেন্টপুলে বৃত্তী পান- ও ১ম স্হান লাভ করেন ও চারদিকে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে ।তার পর তাকে আর পিছনে তাকাতে  হয়নি ।বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পেয়েছে,পড়াশুনা ওজীবন-যাপনে বৃত্তির  টাকা পেয়েছেন, বিত্তবানদের সহায়তা পেয়েছেন,সন্মান পেয়েছেন, তিনি জ্ঞানলাভে শুধু  অনন্তর  চেষ্ঠা করেছেন ।কিন্তু বিধি বাম- তার স্নেহশীল পিতা তার মেট্রিক পরিক্ষার ৩মাস পূর্বে হঠাৎ মৃ্ত্যু বরন  করায় তার উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো ।অতপর সময়ের চাকায় চড়ে তিনি মেট্রিক পরিক্ষায়  ১ম বিভাগ লাভ করেন ।

সেই ছোটবেলা থেকে সেলিম মিয়ার স্বপ্ন  উচ্চশিক্ষিত হওয়া,আর তার স্বপ্ন ছোয়ার পথে তিনি তার গ্রাম,চেনা-পরিজন,আত্মীয়-স্বজন  ছেড়ে অজানা-অচেনা নরসিংদী শহরে আসেন এবং নরসিংদী সরকারী কলেজে ভর্তি  হন । সবচেয়ে অভাক করা ব্যাপার  এই যে,তার লেখাপড়া চালানোর খরচ দেবার মতো এই পৃথিবীতে ছিলনা আর নরসিংদীতে আসার আগ পর্যন্ত নিজেও জানতেন না যে,তিনি পড়াশুনার খরচ কিভাবে  জোগার করবেন? খোদাতালার কৃৃপা তার উপর পরেছিল- টিউশানি অর্থ্যাৎ ছাএ পরিয়ে  উপার্জনে তার জীবিকা নির্বাহকে তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং সাফল্য পান ।টিউসানি পেশার তিনি অনেক সুনাম অর্জন করেন ও ছাএ পরিয়ে  বেশ ভালো সঞ্চয় করতেও সমর্থ হন  । একই সাথে কর্মজীবন ও ছাএজীবন ছন্দময় গতিতে চলতে চলতে তা তার লক্ষ্যে পৌছতে সমর্থ হয়।তিনি এইচ.এস.সি তে ১ম  বিভাগে উত্তীর্ন হয়ে বি.এস.সি তে ভর্তি হন এবং দিনরাত অবর্ননীয় পরিশ্রম ও কঠোর অধ্যবসায় দিয়ে বি.এস.সি তে -১ম বিভাগে ফাষ্ট ক্লাস ফা্ষ্ট হন ।তার মেধা দেখে দেশ-বিদেশ হতে বিভিন্ন সরকারী- বেসরকারী প্রতিষ্ঠান হতে উচ্চ পদে ও বেতনের অফার    ফিরিয়ে  দেন-কারন তিনি কারো অধীনে থাকতে তিনি অভ্যস্ত  নন ।

জীবন যুদ্ধের  পটভূমিতে সেলিম তার এযাবৎ কালে তার রক্ত স্নাত ঘামে অর্জিত সমস্ত অর্থকে তার পুজি বানিয়ে নরসিংদী শহরের ষ্টেশন রোডের জনৈক নিয়াজ মুন্সীর নিকট হতে একটে ভিট ভাড়া নিয়ে তাতে দোকানঘর  বানিয়ে -”সেলিম মেডিকেল হল” নামে  একটি ঔষধের দোকান চালু করেন ।অত্যন্ত পরিশ্রম ও মেধা ওতার দক্ষতা দিয়ে তিনি তার ব্যাবসায় ব্যাপক সুনাম ও সাফল্য লাভ করেন এবং তার ব্যবসা পরিধি নরসিংদী ছাড়িয়ে আশে-পাশের  জেলাগুলোতে বিস্তার লাভ করতে থাকে। তৎকালীন সরকারী হাসপাতাল,জেলখানা,পুলিশ লাইন,সিভিল সার্জন অফিস গুলোতে ঔষধ,খাদ্য,অফিসিয়াল দ্রব্য স্হানীয় দরপএ দিয়ে ঠিকাদার কতৃক সরবরাহ করা হতো ।সেলিম মিয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাজধানী ঢাকা থেকে- নরসিংদিী,কিশোরগঞ্জ,ব্রাক্ষনবাড়িয়া ছাড়িয়ে সূদুর সিলেট পর্যন্ত সকল জেলখানা,সিভিল সার্জন অফিস,পুলিশ লাইন -গুলোতে একমাএ ঠিকাদার হিসেবে প্রায় এক যুগ নিয়োজিত ছিল এবং বিপুল অর্থ লাভ করেছিল ।আর  তার ব্যাপক পরিচিত সেলিম মেডিকেল হলটি তৎকালীন নরসিংদীবাসী সকল প্রকার জীবন রক্ষাকারী ঔষধ প্রাপ্তির নির্ভরযোগ্য স্হান । তিনি ঔষধের ব্যবসাকে একটি সন্মানজনক উচ্চতায় পৌছে দিয়েছেন । তিনি এই ব্যবসা জড়িত লোকজনকে নিজ সন্তানের মতো ভালবাসতেন ।আর তাই কিছু অসাধু  ব্যাক্তি  ঔষধ ব্যাবসায়ীদের নেতা সেজে সাধারন ব্যাবসায়ীদের নাজেহাল ও চাদাবাজী করছিল-তখন নরসিংদীর বিশিষ্ট ব্যাবসায়ীগন তার নিকট আসে পরিএানের আশায় এবং সকল ব্যাবসায়ীদের ব্যাপক জোড়াজুড়িতে প্রতিষ্ঠানটির  নেতৃত্তের ভার নেন ।প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি বাংলাদেশ কেমিষ্ট ও ড্রাগিষ্টস সমিতি-নরসিংদীর জেলা প্রেসিডেন্ট থেকে তাদের জন্য কাজ করে গেছেন ।পরিসংখ্যানে প্রাপ্ত জেলা প্রতি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ঔষধ ব্যাবসায়ীর সংখ্যা নরসিংদী জেলায় সবচেয়ে বেশি -যা তার একমাএ অবদান/.কৃতিত্ত ।সরকার কর্তৃক লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়নের জন্য ফার্মাসিষ্ট ট্রেনিং বাদ্যতামূলক করা হলে তিনি সদূরপ্রসারি পরিকল্পনা হাতে নেন ।তিনি জানতেন- নরসিংদীর ঔষধ ব্যাবসায়ীগন নরসিংদীর বাহিরে কোন ট্রেনিং নিতে যাবে না ,ফলে তাদের লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়নে জটিলতা সৃষ্টি  হবে । আর তাই তিনি বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ড হতে প্রথমে নিজ প্রতিষ্ঠানের নামে ফার্মাসিষ্ট ট্রেনিং কোর্স চালু করেন ।পরবর্তীতে সমিতির জাতীয় নেতৃবৃন্দ এই কোর্স চালু করার ব্যবস্হা গ্রহনে রাজি করান ।যার ফলশ্রতিতে নরসিংদী জেলার ঔষধব্যাবসায়ীগন  চিশ্চিন্ত ফার্মাসিষ্ট ট্রেনিং নিতে সমর্থ হয়।সেলিম মিয়া তার জীবদ্দসায় যে কোন ব্যবসায়ীর যে কোন বিপদে তার পাশে ছিলেন ।তিনি জ্ঞানতঃ কোন মানুষের সাথে কোন অন্যায় আচরন কিংবা কোন ক্ষতি করেননি ।তিনি সমগ্র দেশের একজন সবচেয়ে বড় ব্যাবসায়ীর আসনে থেকে ঔষধ ব্যবসাকে একটি সন্মান জনক স্হানে পৌছে দিয়েছেন । তার নেয়া অন্যতম উদ্দোগ এই যে, সর্বস্হরের সকল ঔষধের দোকানে এম.আর.পি -বাস্তবায়নের উদ্দোগ।এতে তিনি  এবং তার ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্হ হবে  নিয়েছিলেন । তিনি আজীবন চেষ্ঠা করেছেন যেন ব্যাবসার মধ্যে রাজনীতি অনুপ্রবেশ করতে না পারে- আর এ ব্যাপারে তিনি সফল হয়েছিলেন । ঔষধ ব্যবসায়ীদের নিয়ামক  শক্তি ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিগন অর্থাৎ এম.আর গন,উভয়ের যৌথ কর্মকান্ডের ফসল সফল ব্যাবসায়ীক পরিবেশ ।এহেন বাস্তবতায় তিনি সকল পেশাজীবিদের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক স্হাপন করে নরসিংদীর ঔষধ ব্যবসাকে একটি সন্মানজনক উচ্চতায় পৌছে দিয়েছেন । ষড়যন্একারীদের তৎপরতা সকল সময়ই  চেষ্ঠারত ছিল আর ব্যাবসায়ীদের লেভাসে সবসময় কিছু অসৎ ব্যবসায়ী থাকে ফায়দা লাভের আশায় । সকল অসৎলোকজনের পথের কাটায় পরিনত হন সেলিম সাহেব ।ষড়যন্এের বীজ গজাতে থাকে — অলীক স্বপ্নে বিভোর এম.আর গন রাজনীতিবিদদের হাতের পুতুলে পরিনত হন ।দুঃখজনক এক বিদায় ঘটে- তারডানহাত,ব্যাসায়ীক সহচর তার প্রিয় পুএ রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরন করলে তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো- তিনি দ্বিক-বিদিক হারিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে যান । চারদিক থেকে তার উপর অবর্ননীয়  মানষিকচাপে তিনি শয্যাগত হয়ে পড়েন । আল্লাহর উপর অবিচল সেলিম মিয়া  ক্রমশঃ বুঝতে পারেন –ষড়যন্এগুলো ।কিন্তু তার বুজতে পারায় সময়টা বেশি দেরি হয়ে গেছে –পরিস্হিতি তার সম্পূর্ন  বিপরীতে চলে গেছে এবং তার অপর ১মপুএ ইতিমধ্যে নরসিংদী থেকে স্হানান্তরিত হয়ে ঢাকায় চলে গিয়াছে ফলে এখন নরসিংদীতে সম্পূর্ন একা । সুযোগসন্ধানীরা এরই সুযোগে  সেলিম মিয়ার প্রানপ্রিয় ব্যাবসায়িক স্হান-তার ৫০বছরের অধিককালের ঔষধের দোকানটি দখল করে তাকে বের করে দেয় ও সাইনবোর্ডটি নামিয়ে ফেলে ।তিনি নিশ্চুপ অবনত মস্তকে নিজ বাসগৃহে চলে আসেন ।এই  ঘটনার ৩দিন  পর মসজিদে এশার নামাজ পড়ে বাসায় ডোকার সময় কয়েকজন বিপথগামী  খুনীচক্রের অতকৃত আক্রমনে তিনি শাহাদাৎবরন  করেন ।জীবনযুদ্ধের  ময়দানে তিনি বহু পথ একাকী পাড়ি দিয়েছেন, অবর্ননীয় পরিশ্রম করে জীবন-যুদ্ধের ময়দানে সর্বোচ্চ শিখরে পৌছেছেন,শুন্যহাতে এক অজপাড়া গ্রাম থেকে এসে সৎভাবে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ।কিন্তু দুর্ভাগ্য তার এ অসুস্হ সমাজে তার নামকে নিশ্চিন্হ করার প্রচেষ্ঠা চলছে ।  এহেন বাস্তবতায় আমি ডাঃ ইফতেখার ইসলাম- সেলিম মিয়া জোষ্ঠ্য পুএ হিসেবে আমার পিতার অবদানকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌছানোকে পবিএ ইমানী দ্বায়িত্ব মনে করছি । সেই দ্বায়িত্ব পালনে আমার এ উদ্দোগ ।